এইচ এম মোরসালিন ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, খানসামা উপজেলা শাখার সভাপতি এইচ এম মোরসালিন ইসলামের বিরুদ্ধে একটি পরিচয়হীন ফেসবুক পেজ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সম্পূর্ণ মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
‘হক প্রকাশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বানোয়াট তথ্যে দাবি করা হয়, ছাত্র নেতা নিজ ইচ্ছামতো কমিটি গঠন করেছেন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বলা হয়, তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা আনোয়ার হোসেন নদভীর কাছ থেকে নিয়মিতভাবে মাসে মাসে বড় অংকের অর্থ গ্রহণ করেছেন।
এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে এইচ এম মোরসালিন ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর খানসামা উপজেলা শাখার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলেন,
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সঙ্গে তার দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের সাংগঠনিক পথচলায়—ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে বর্তমান উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত—তিনি কখনো এক পয়সাও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা কারো কাছ থেকে অন্যায়ভাবে গ্রহণ করেননি।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত যেসব কমিটি তিনি গঠন করেছেন, সবই সংগঠনের মুরুব্বিদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন মেনেই করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলা ও জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করেই প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন,
“আমার সংগঠনে ছাত্রলীগ বা কোনো দলীয় লীগ বাহিনীর কোনো স্থান নেই। এমনকি তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সংশ্রব রয়েছে—এমন কাউকেও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটি একটি আদর্শিক সংগঠন, যেখানে আপসের কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“অতিদ্রুত এসব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ডিলিট করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি আইনগত ও সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।”
তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,
“যদি কেউ এই অপপ্রচারের একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি প্রকাশ্যে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবো—এটাই আমার অঙ্গীকার।”
এইচ এম মোরসালিন ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোস্ট অপসারণ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করা হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

