ঢাকাশনিবার , ২৩ মে ২০২৬
  1. আইন
  2. আবহাওয়া
  3. ইতিহাস
  4. ইসলাম
  5. ইসলামি আইনের শাসন
  6. ঐক্য
  7. খেলা
  8. খেলাফত
  9. জাতীয়
  10. ধর্মীয় খবর
  11. বিনোদন
  12. বিশ্ব
  13. মতামত
  14. মানবাধিকার
  15. মুসলিম উম্মাহ'র মুক্তি
আজকের সর্বশেষ খবর

একের পর এক প্রোপাগান্ডা চালানো কে এই তারেক আহমদ খান?

Abdul Basit
মে ২৩, ২০২৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আব্দুল বাছিত: সকল অভিযোগ থেকে তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও একের পর এক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন তারেক আহমদ খান নামক এক ব্যক্তি| তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ড সভাপতি এবং মহানগরের দপ্তর সম্পাদক| পাশাপাশি নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন| তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি দল বিএনপি’র ক্ষমতাবলে তিনি একটি এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন| বলছিলাম, সিলেট নগরীর কুমারপাড়াস্থ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কাজী জালাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা| তারেক আহমদ খান ওই বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে| তারেক আহমদ খানের বাসা ওই এলাকার ঝেরঝেরিপাড়া আবাসিক এলাকায়| অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদিরের রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন এই তারেক নামক প্রোপাগান্ডিস্ট| তিনি দীর্ঘদিন থেকে ওই বালিকা বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালিকের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন| তিনি একের পর এক সিলেট প্রেসক্লাব এবং সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে মিথ্যাচার করে আব্দুল খালিকের সম্মান ক্ষুণ্ন করছেন| শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, তাকে সহায়তা করছেন ওই বিদ্যালয়েরই শিক্ষক জামাল উদ্দিন, ফজলুর রহমান ও আব্দুল জলিল নামক ব্যক্তিত্রয়| এছাড়া তারেক আহমদ খান নামক ওই ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে এক সহকারী জনৈক কমিশনারের মাধ্যমে এক তরফা ম্যানেজ তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালিককে গায়েল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন| অথচ কোর্ট তাঁকে নির্দোষ এবং স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে|

জানা যায়, জামাল উদ্দিন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক  ও ডেভিল হিসেবে ওই এলাকায় বেশ পরিচিত| সে শিক্ষার্থীদের চুল ধরে টানাটানি করে এবং ক্লাস থেকে লাথি মেরে বের করে দেবে বলে হুমকি দেয়| এ ব্যাপারে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে| ফজলুর রহমান মোট ৬ বিয়ে করেছে এবং প্রত্যেক স্ত্রীকে নির্যাতন করে তালাক দিয়েছে| এছাড়া তার বিরুদ্ধে এসেছে, সে ক্লাসে শিক্ষার্থীদেরকে গরুর বাচ্চা বলে গালাগালি করে থাকে| কয়েকজন ছাত্রের কাছ থেকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে| অপরদিকে আব্দুল জলিলও তলে তলে ডেভিলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন| জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর আব্দুল জলিল শেখ রাসেলকে এসএসসি’র টেস্ট পরীক্ষায় প্রশ্ন করেছেন| প্রকৃতপক্ষে এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ থেকে পার পাওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ডেভিল জামাল উদ্দিন সহকারী প্রধান শিক্ষক হতে না পারার দুঃখ থেকে তারেক আহমদ খানকে পুঁজি করে ঘৃণ্য অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার চালাতে শুরু করে|

একটি গভীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উপরোক্ত তিনজন ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে ইন্ধন দিচ্ছেন কানাডাপ্রবাসী মুরশেদা রহমান চৌধুরী| যিনি কাজী জালাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক| এটা অনস্বীকার্য সত্য যে, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাবলে ওই মুরশেদা রহমান চৌধুরী মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালিককে প্রায় ছয় বছর স্কুল থেকে দূরে রেখেছিলেন| মুরশেদা রহমান চৌধুরী প্রধান শিক্ষক হওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন| কিন্তু সকল অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে আব্দুল খালিক নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন| শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন প্রত্যেকের রিপোর্টে তিনি নির্দোষ সাব্যস্ত হয়েছেন| কিন্তু সমালোচনা যেন তার পিছু ছাড়ছে না| তাদের ইন্ধন পেয়ে তারেক আহমদ খান প্রতিনিয়তই অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা রিপোর্ট করে যাচ্ছেন| প্রশ্ন উঠে, পুরোনো হিংসাকে জিইয়ে রেখে মুরশেদা রহমান খান কি তারেক আহমদ খানের সাথে লিয়াজোঁ করেই যাচ্ছেন? এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, খন্দকার মুকতাদিরের ক্ষমতাবলে তিনি ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার তালিকায় রয়েছেন| সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খুশনূর রবাইয়াতের সাথে কথা বলে এ বিষয়টি জানা যায়| যদিও তিনি খন্দকার মুকতাদিরের দেওয়া ওই তালিকা দিতে বা দেখাতে তিনি রাজি হননি|

নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪ (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী স্নাতক পাশ ছাড়া কাউকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে| এছাড়া পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা শিক্ষায় আগ্রহী স্থানীয় খ্যাতিমান ব্যক্তি কিংবা সমাজসেবকদের মধ্যে থেকে শিক্ষাবোর্ড প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হবে| সেখানে তারেক আহমদ খানের অনভিপ্রেত প্রচেষ্টা কি রাজনৈতিক ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়ন, এটাই এখন জনমনে প্রশ্ন! বৃহত্তর কুমারপাড়া এলাকার লোকদের কাছ থেকে জানা যায়, আব্দুল খালিকের মতো মহৎ ব্যক্তিত্ব হয় না| যিনি কয়েকবার জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট| আর এটিকে পুঁজি করেই মিথ্যাচারে নেমে পড়েছেন তারেক আহমদ খান ওই ব্যক্তি! তিনি একেরপর এক সংবাদ সম্মেলন এবং নিউজ করে কী দায়টা-ই না সাড়ছেন, এটাও জনগণের প্রশ্ন! তবে কুমারপাড়া এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায়, তারেক আহমদ খান নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে ওই স্কুলের সভাপতি হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন| যদিও পরিপত্রের বিধান অনুযায়ী সভাপতি হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও তার মধ্যে নেই! তবে তিনি একের পর এক সংবাদ সম্মেলন এবং বানোয়াট নিউজ করে কার স্বার্থ হাসিলে মত্ত রয়েছেন, এটাই এখন দেখার বিষয়|

Visited ১২ times, ১ visit(s) today

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “dailymuktirsangram” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।